আন্তর্জাতিক
মোদির মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া : বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয়
মহান বিজয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি ওই পোস্টে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণকে ‘ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলেননি।
নরেন্দ্র মোদির এই পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ ছিল বাংলাদেশের বিজয়ের দিন। ভারত ছিল এই বিজয়ের মিত্র, এর বেশি কিছু নয়।’
শুধু আসিফ নজরুল নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়েছেন বহু মানুষ। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে রাজনীতিবিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরাও ক্ষোভ জানান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের এই সংগ্রামকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয়।
কী লিখেছেন মোদি
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডলে নরেন্দ্র মোদি সোমবার লিখেছেন, ‘আজ, বিজয় দিবসে, ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সাহসী সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে আমরা সম্মান জানাই। তাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মোৎসর্গ ও অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এই দিনটি তাঁদের অসাধারণ বীরত্ব ও অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।’

ভারতের লোকসভায় সোমবার বাংলাদেশ বিষয়ে বক্তব্য দেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনিও ‘ভারত বিজয় পেয়েছে’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আওয়াজ তখন কেউ শুনছিল না। ভারতের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ভারতের নেতৃত্ব ও সেনার পাশে দাঁড়িয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে বিজয় অর্জিত হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে উল্লেখ করে ভারত সরকারকে ‘আওয়াজ’ ওঠানো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চালানো হয় নির্মম গণহত্যা। এরপর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশ ও ভারতের বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ওই দিন ঢাকায় স্বাক্ষরিত দলিলে বলা হয়েছিল, পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সকল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণে সম্মত হলো।’
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ বাহিনীর উপপ্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। বাংলাদেশ বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর পক্ষে আরও ছিলেন এস ফোর্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার, কাদের সিদ্দিকীসহ অনেকে।
ভারতই যেভাবে বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলছে
ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। ভারতীয় সেনারাও প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু ভারতে এটিকে তাদের একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতের যশরাজ ফিল্মসের গুন্ডে সিনেমায় ‘১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরিণামেই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম’ বলে দাবি করা হয়। তখনো এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদের পর ঢাকায় এই বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে যশরাজ ফিল্মস। তবে সিনেমাটিতে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় তারা।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদি শুভেচ্ছা জানিয়ে তখনকার টুইটারে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। এতে তিনি লিখেছিলেন, ‘মহান বিজয় দিবসে আমি বীরত্ব ও আত্মত্যাগের জন্য স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী সেনাদের। একসঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা অত্যাচারী বাহিনীকে পরাজিত করেছি। বাংলাদেশের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনে ভারতের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় বিজয় দিবসে নানা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উপস্থিত আছেন।’
এবার মোদির পোস্টে বাংলাদেশ শব্দটিই স্থান পায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এবারের পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে যুক্ত করে সোমবার লিখেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মোদি দাবি করেছে, এটি শুধু ভারতের যুদ্ধ এবং তাদের অর্জন। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্তিত্বই উপেক্ষিত।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি। ভারতের এই হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে।’
তীব্র নিন্দা জানালেন রাজনীতিবিদেরা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তিনি সেখানেই রয়েছেন। তিনটি বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ভারতের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা রয়েছে বাংলাদেশে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে বলে ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ নিয়ে ভারতে বিক্ষোভ হয়। ২ ডিসেম্বর আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়। পরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৯ ডিসেম্বর ঢাকা সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্ত্রি। পরে দুই দেশেই উত্তেজনা কিছুটা কমে। বিজয় দিবসে নরেন্দ্র মোদির পোস্টের পর আবার বাংলাদেশে ক্ষোভ তৈরি হলো।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ৯ মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের এই সংগ্রামকে ভিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। একটি জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে দেখা উচিত।
বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে আরও তিনজন রাজনীতিবিদের সঙ্গে। তার মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘মোদির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। এটা অগ্রহণযোগ্য।’
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেনের মতে, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, বিজয় এনেছে, তা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বন্ধুসুলভ মনোভাবের প্রকাশ নয়। তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী চিন্তা থেকে এ ধরনের বক্তব৵ মোদি দিয়েছেন।
অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করে না, গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে না, সেটা আরেকবার প্রমাণ করল নরেন্দ্র মোদির এই পোস্ট।
‘প্রতিষ্ঠিত বয়ান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা’
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, নরেন্দ্র মোদির এই মন্তব্য একটি প্রতিষ্ঠিত বয়ান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। এটার পেছনে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মোদি সরকার সব ক্ষেত্রে ভারতের একক কৃতিত্ব দেখাতে পছন্দ করে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষ শুরু করেছিল। ভারত তাতে সহায়তা করেছে। আমরা ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। ভারতেরও উচিত বাংলাদেশের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা।’
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলা নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প, দূতদের মতামতের অপেক্ষায়
ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে, সেখানে যেকোনো হামলা ‘এক দফা বা চূড়ান্ত কোনো আঘাত’ হবে না। বরং এমন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ত্যাগের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন এ দুই প্রতিনিধি।
সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক প্রভাব খাটানোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে বলে তাঁর সহকারীরা জানিয়েছেন।
ইরানে বেশ বড় ধরনের আঘাত হানা হবে—ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের কাছে এমন পরিকল্পনা চেয়েছেন, যাতে দুর্বল হয়ে ইরানি নেতারা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন। তবে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠাবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কর্মকর্তাদের মতে, জেনেভার এই আলোচনা সংকটের অবসানে ‘শেষ চেষ্টা’ হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক আদালতে দখলদার ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়
নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল ২২ জুন নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) বাংলাদেশের দখলদার সরকারের তথাকথিত প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে রোম সংবিধির ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ দায়ের করেন কানাডা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমডি হাসান। তিনি গত ৫ অগাস্ট থেকে ১৮ অগাস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে নিহত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর হয়ে যাওয়া নির্মম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, এই মর্মে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতঃ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত দুইটি অপরাধ হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করেন। জনাব হাসানের আইনজীবি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সলিসিটর নিঝুম মজুমদার।
ইউনুস ছাড়াও এই ৬৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে আসিফ নজরুল, লে জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব) শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সহ ইউনুসের উপদেষ্টা মন্ডলীর সকল সদস্য এবং কথিত ছাত্র বৈষম্য জোটের মোহাম্মদ হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম, আবু বকর মজুমদার সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখ্য অভিযোগ আনা হয়।
এই অভিযোগে মূল অভিযোগপত্রের সাথে প্রায় ১৭০০ পৃষ্ঠার তথ্য-নথি-পত্র প্রমাণ স্বরূপ যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নাম করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনুস সরকার গত ৫ ই অগাস্ট থেকে ১৭ ই অগাস্ট(২০২৪) পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত করে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, ধর্ষন, দেশ ত্যাগে বাধ্য এবং লক্ষ লক্ষ ঘরবাড়ি, সম্পদ ইত্যাদি বিনষ্ট করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দাখিলকৃত এই অভিযোগের মধ্যে জনাব এম ডি হাসান কানাডাপ্রবাসী প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করলেন। তবে এই ধরনের আরো ১৫ হাজার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করবার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে খুব শিঘ্রীই ক্ষতিগ্রস্থ সংঘুব্ধ ব্যাক্তিরা একে একে অভিযোগ দায়ের করবেন।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ নিয়ে ফলকার টুর্ক : সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন দেখলাম
বাংলাদেশে জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে দমন–পীড়নে অংশ না নিতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করার পর সরকার পরিবর্তন হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্ক এ কথা বলেছেন। বিবিসির ওয়েবসাইটে বুধবার হার্ডটক অনুষ্ঠানের এই পর্ব প্রকাশ করা হয়। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্কের সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির উপস্থাপক স্টিফেন সাকার।
অনুষ্ঠানে গাজা, সুদান, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্টিফেন সাকার ফলকার টুর্ককে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধ মেনে এসব পরিস্থিতি সমাধানে জাতিসংঘকে ক্ষমতাহীন মনে হচ্ছে। এর জবাব দিতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ফলকার টুর্ক।
ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে এটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। আমি গত বছরের বাংলাদেশের উদাহরণ দিচ্ছি। আপনি জানেন জুলাই–আগস্টে সেখানে ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।’ বাংলাদেশে তখন শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রদের আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিপীড়ন চলছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য বড় আশার জায়গা ছিল আসলে আমরা কী বলি, আমি কী বলি, আমরা কী করতে পারি এবং আমরা ওই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করি।
আমরা প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করি, যদি তারা এতে জড়িত হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে তারা হয়ত আর শান্তিরক্ষী পাঠানোর দেশ থাকতে পারবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা পরিবর্তন দেখলাম।’ ফলকার টুর্ক বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলেন, তিনি আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে বললেন, আপনি কি একটি তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠাতে পারেন, পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন এবং সেখানে যা ঘটছি, তা তদন্ত করতে বললেন। আমরা এগুলোই করেছিলাম। এবং এটা কার্যত সাহায্য করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত বছর বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আমরা একটি অবস্থান নেওয়ায়, আমরা কথা বলায় এবং তাদেরকে সহযোগিতা করায় ছাত্ররা আমাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ ছিল।’
সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ফলকার টুর্ক বলেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হবে। কারণ, ইউএসএআইডি এবং বিদেশি সহায়তা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সিরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশের দেশগুলোতে থাকা সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের ক্ষেত্রে এটা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে তাঁরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনের গাজার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সেখানে যা ঘটছে, তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
-
টরন্টোর খবর11 months ago
অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের পদত্যাগের দাবীতে কানাডা আ. লীগের মানববন্ধন ও স্বারকলিপি
-
টরন্টোর খবর1 week ago
টরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
আন্তর্জাতিক6 days agoইরানে হামলা নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প, দূতদের মতামতের অপেক্ষায়
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
ভোটের হার জানতে সব আসনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে: ইসি সচিব
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
‘দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে’
