কানাডার খবর
কানাডায় বিদেশিদের আশ্রয় চাওয়ার ঘটনা বাড়ছে কেন? তথ্য চাইলেন কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী
গত সেপ্টেম্বর মাসে এক আধিকারিক হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছিলেন, কানাডায় ভারতীয় বিভিন্ন সংস্থার বাইরে খলিস্তানিদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়ছে। তাঁরা সেখানে গিয়ে নিজেদের সেলফি তুলছেন। আর তারপর প্রায় মুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাচ্ছেন!
যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা কানাডায় ‘আশ্রয়’ চেয়ে আবেদন করছেন, এবং যেভাবে এই সংখ্যাটা বাড়ছে, তাতে উদ্বিগ্ন জাস্টিন ট্রুডোর সরকার।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সেদেশের ‘কলেজ অফ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কনসালট্যান্টস’ (সিআইসিসি)-এর প্রেসিডেন্ট তথা মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও) জন মুরেকে চিঠি লিখেছেন ট্রুডো সরকারের অভিবাসন, শরণার্থী এবং নাগরিকত্ব বিভাগের মন্ত্রী মার্ক মিলার।
প্রসঙ্গত, সিআইসিসি-ই হল সেই সংস্থা, যারা কানাডায় আসা শরণার্থীদের এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পড়ুয়াদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়া বা তাঁদের নাগরিকত্ব প্রদান করার বিষয়টি পরিচালনা করে। এবং তাঁদের উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করে।
মিলারের অভিযোগ, বিদেশ থেকে আসা পড়ুয়াদের একাংশ কানাডা সরকারের নিয়ম ভেঙে অন্যান্য (থার্ড পার্টি) সংস্থার দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছেন এবং ভুয়ো ও মিথ্যা তথ্য পেশ করে কানাডায় আশ্রয় চাইছেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন মিলার।
মুরেকে পাঠানো সেই চিঠির প্রতিলিপি নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন মিলার। তিনি লিখেছেন, ‘যাঁদের নিরাপত্তা প্রয়োজন, কানাডা সেইসব মানুষকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু, অনেকেই এখানে আশ্রয় পাওয়ার জন্য নিজেদের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিচ্ছেন অথবা সেই ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতেই কানাডায় পাকাপাকিভাবে থাকার আবেদন জানাচ্ছেন। এর ফলে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা নষ্ট হচ্ছে।’
মিলার তাঁর চিঠিতে মুরেকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি দেখা যায়, কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জেনে-বুঝে এই ধরনের কোনও অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এমনকী, দোষী ব্যক্তির লাইসেন্স পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
তথ্য বলছে, কানাডায় থাকতে চেয়ে সবথেকে বেশি আবেদন করছেন ভারত থেকে আসা পড়ুয়ারা। বস্তুত, আবেদনকারীদের এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের অবদানই সবথেকে বেশি।
এবছর, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে ১,৩২,৫২৫ জন বিদেশি কানাডায় আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে ২৪,৩৮০ জনই ভারতীয়। গত বছর মোট ১,৪৩,৩৬৫ জন কানাডায় আশ্রয় চেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ছিলেন ১১,২৬০ জন।
অথচ, ২০১৫ সালে মোট ১৬,০৫০ জন বিদেশি কানাডায় থাকতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ছিলেন ৩৮০ জন।
এই ঘটনায় ভারতও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য হল, খলিস্তানপন্থীরাই কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে এক আধিকারিক হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছিলেন, কানাডায় ভারতীয় বিভিন্ন সংস্থার বাইরে খলিস্তানিদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়ছে। তাঁরা সেখানে গিয়ে নিজেদের সেলফি তুলছেন। আর তারপর প্রায় মুহূর্তে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাচ্ছেন!
কানাডার খবর
টরন্টো স্থায়ী শহীদ মিনার-এ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের আয়োজন
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অমর একুশে আমাদের চেতনার প্রেরণা।
সুধী,
২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি সর্বজনীনভাবে উদযাপন করা হবে। ২০শে ফেব্রুয়ারি টরন্টো স্থায়ী শহীদ মিনার-এ রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের আয়োজন করা হয়েছে।
আপনাদের সাদর আমন্ত্রণ রইল।
ধন্যবাদান্তে,
সর্বজনীন আয়োজক কমিটি

কানাডার খবর
৭ অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করলো কানাডা
মাদক, সন্ত্রাস ও অর্থপাচার রোধে সম্প্রতি কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাতটি অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটি। পাশাপাশি, অর্থপাচার রোধে ব্যাংকের সঙ্গে নতুন একটি অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালিকায় থাকা সংগঠনের মধ্যে রয়েছে মারা সালভাত্রুচা, কারতেল দে সিনালোয়া এবং ত্রেন দে আরাগুয়া।
কানাডার ঘোষণার একদিন আগে, ত্রেন দে আরাগুয়া, সিনাওলাসহ একাধিক মাদক পাচারকারী চক্রকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন বলে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেছিলেন, মাদক চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জননিরাপত্তামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইনটি বলেছেন, চিহ্নিত সংগঠনগুলো নৃশংসতার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখে। তারা মানব, মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র পাচারের সঙ্গেও যুক্ত থাকে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের পথেঘাটে অবৈধ ফেন্টানিলের বিক্রি যেমন বন্ধ হবে তেমনি যুক্তরাষ্ট্রে পাচারও কমবে।
তালিকাভুক্ত বাকি চার সংগঠন হলো কারতেল দেল গলফো, লা ফামিলিয়া মিচোয়াকানা, কারতেলেস ইউনিদোস এবং কারতেল দে জালিসকো নুয়েভা জেনারেসিওন।
মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচার দমনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কানাডার অর্থ মন্ত্রণালয় এক নতুন অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কেন্দ্রীয় সরকার এবং দেশের বড় ব্যাংকগুলো একত্রে অর্থ পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করবে।
মাদকপাচার রোধে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেভিন ব্রোসো বুধবার এই অংশীদারত্বের প্রথম বৈঠক পরিচালনা করেন। সেখানে ব্যাংকের প্রধান অর্থ পাচাররোধী কর্মকর্তারা এবং পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কানাডার খবর
টরন্টো বিমানবন্দরে অবতরণের সময় উড়োজাহাজ উল্টে আহত ১৮
কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় যাত্রীবাহী একটি বিমান উল্টে গেছে। সোমবারের (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় শিশুসহ কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দেশটির জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটি মিনিয়াপোলিস থেকে টরন্টো আসছিল। অবতরণকালে তাতে ৮০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
অন্টারিও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তারা তিনটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টারসহ পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে।
উড়োজাহাজটি ঠিক কী কারণে উল্টে গেছে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দুর্ঘটনার আগে টরন্টোতে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছিল বলে জানা গেছে। যদিও দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার সময় বিমানবন্দরের রানওয়ে শুষ্ক ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে তুষারাবৃত টারমার্কে একটি উড়োজাহাজ উল্টে পড়ে আছে। ঘটনার পর ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যাত্রীরা উল্টে যাওয়া বিমানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছেন। উড়োজাহাজটির অন্তত একটি পাখা ভেঙে গেছে বলেও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিও ধারণ করা এক যাত্রী বলেছেন, আমরা সবেমাত্র টরন্টোয় অবতরণ করেছি। আমাদের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, এটি উল্টে গেছে।
টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডেবোরা ফ্লিন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিমান উল্টে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। বিমানের যাত্রীদের মধ্যে কানাডা ছাড়াও আরও অনেক দেশের নাগরিক ছিলেন বলেও জানান মিজ ফ্লিন্ট।
রানওয়েতে বিমান উল্টে যাওয়ার ঘটনাকে ‘গুরুতর ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার পরিবহনমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। তিনি নিবিড়ভাবে বিষয়টিকে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানিয়েছেন।
ঘটনার পর দ্রুত যাত্রীদের উদ্ধার করায় উদ্ধারকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ।
অন্যদিকে, কানাডার ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (টিএসবি) বলেছে যে, তারা দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়ন করার জন্য একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সাময়িক সময়ের জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবশ্য স্বাভাবিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্তের জন্য বিমানবন্দরের দুটি রানওয়ে বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিমান ওঠা-নামায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর আমেরিকায় একের পর এক বিমান দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে জানুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষে অন্তত ৬৭ জন প্রাণ হারান। এরপর ফিলাডেলফিয়ায় আরেকটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে সাতজন নিহত হন।
-
টরন্টোর খবর11 months ago
অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের পদত্যাগের দাবীতে কানাডা আ. লীগের মানববন্ধন ও স্বারকলিপি
-
টরন্টোর খবর1 week ago
টরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
আন্তর্জাতিক6 days agoইরানে হামলা নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প, দূতদের মতামতের অপেক্ষায়
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
ভোটের হার জানতে সব আসনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে: ইসি সচিব
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
‘দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে’
