আন্তর্জাতিক
রাজনীতিতে আর ফিরবেন না ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা, কাজ করবেন আড়ালে
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প নিজের পরিণত বয়সের পুরোটাই বাবার সঙ্গে নানা কাজে কাটিয়েছেন। ট্রাম্প যখন আবাসন খাতের মোগল ছিলেন, তখন ইভাঙ্কা তাঁর পরবর্তী হোটেলের নকশা করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ট্রাম্প যখন টিভিতে অনুষ্ঠান করতেন, তখন তিনি তাঁর টেলিভিশন বোর্ডরুমের সদস্য ছিলেন। ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলেন, তখন তিনি তাঁর প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন ইভাঙ্কা হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে কাজ করেছেন।
কিন্তু ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ইভাঙ্কা ওয়াশিংটন ছেড়ে যান, বাবার চাকরিও ছেড়ে দেন। ২৩ বছর বয়স থেকে ওয়াশিংটনে থাকার পর এবার তিনি প্রথমবারের মতো শহরটি ছেড়েছেন। এভাবেই রাজনীতির সঙ্গে পাঠ চুকিয়ে ফেলেছেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প। তিনি নিজেও এর আগে বলেছেন, তিনি আর রাজনীতিতে ফিরছেন না।
২০২২ সালে ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইভাঙ্কা বলেছিলেন, ‘আমি আমার বাবাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। তবে এখন আমি আমার ছোট শিশুদের এবং পরিবার হিসেবে আমরা যে একটি ব্যক্তিগত জীবন তৈরি করছি, সেটাকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছি। আমি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’
২০২৪ সালে ট্রাম্পের বিজয়ের পরও ইভাঙ্কা নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র। ওই সূত্রগুলো বলেছে, ইভাঙ্কা ও তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি শহরে একান্ত ব্যক্তিগত জীবন কাটাতে চাইছেন। চার বছর ধরে তাঁরা সেখানে বসবাস করছেন। এ সময় তাঁদের তেমন একটা জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
একজন সাবেক ও পুনরায় নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কোনো সহকারীর এভাবে দূরে সরে দাঁড়ানোটা নাটকীয়। তবে হোয়াইট হাউসে চার বছর অতি ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ইভাঙ্কার এভাবে সরে দাঁড়ানোটা কিন্তু ইচ্ছাকৃত।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাঁর গ্রহণ করা কিছু সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে না পারায় ইভাঙ্কা সব সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। তখন তিনি নিউইয়র্কে নিজেদের উদার মতাদর্শে বিশ্বাসী বন্ধুমহলে কিছুটা অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়েছিলেন। নৈতিকতাবিষয়ক প্রশ্নের মুখে তাঁকে নিজের নামে দাঁড় করানো মোটামুটিভাবে সফল একটি কাপড়ের ব্র্যান্ড বন্ধ করতে হয়েছিল। কিন্তু ইভাঙ্কার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর অর্থ হলো, তাঁর বাবা এখন আর তাঁর বস নন। এখন নতুন জীবনধারায় নতুন পথ তৈরি করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইভাঙ্কা ট্রাম্প। জাপানের ওসাকায় জি-২০ সম্মেলনে, ২৯ জুন ২০১৯
যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইভাঙ্কা ট্রাম্প। জাপানের ওসাকায় জি-২০ সম্মেলনে, ২৯ জুন ২০১৯ছবি: এএফপি
গত জুলাই মাসে ‘দ্য লেক্স ফ্রিডম্যান পডকাস্ট’-এ দীর্ঘ তিন ঘণ্টা কথা বলেছেন ইভাঙ্কা। এতে তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতি বেশ অন্ধকার একটি জগৎ। সেখানে অনেক অন্ধকার ও বিপুল নেতিবাচক বিষয় আছে। মানুষ হিসেবে আমার কাছে যা কিছু ভালো মনে হয়, সেটার সঙ্গে এটা আলসেই মেলে না।’
নিজের ওয়াশিংটনের জীবনের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পের বড় মেয়ে বলেন, ‘আপনি জানেন, এটা (রাজনীতি) আসলেই একটি দুরূহ কাজ। তাই এতে অংশ না নেওয়াটা আমার পরিবার ও আমার জন্য ভালো মনে হচ্ছে।’
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবারের একজন অতিপরিচিত সদস্য হিসেবে ইভাঙ্কা কতটা ব্যক্তিগত জীবন কাটাতে পারবেন, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। ট্রাম্পের অনেক সমর্থকের কাছে তিনি ভীষণ প্রিয়। অন্যদিকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের অনেক নিন্দুকের লক্ষ্যবস্তুও তিনি।
ইভাঙ্কা সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র বলেছে, তিনি এখনো তাঁর বাবার সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ। তিনি তাঁর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। আরও কয়েকটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, দৃশ্যপটের বাইরে থেকে তিনি তাঁকে নানা বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে উপদেশ দেওয়া অব্যাহত রাখবেন।
ইভাঙ্কার দীর্ঘদিনের বন্ধু ম্যাগি কর্ডিশও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে এক বছর কাজ করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের জন্য ইভাঙ্কা একটি বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর। সেদিক থেকে তিনি বাবার একজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টাও।’
চার বছর কাজ করার সময় হোয়াইট হাউসের কর্মী ও উপদেষ্টাদের সমীহ অর্জন করেছিলেন ইভাঙ্কা। তাঁর সাফল্যকে তাঁরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতেন এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতেন। ওই চার বছরে তাঁর সাফল্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য তাঁদের বিশেষ প্রচেষ্টা ছিল। অন্যদিকে তুলনামূলক কম জনপ্রিয় বিভিন্ন নীতি থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখতেন।
ওয়েস্ট উইংয়ের চার বছর মেয়াদে ইভাঙ্কা নিজের ভাবমূর্তি খুব সাবধানে গড়ে তুলেছিলেন। ফৌজদারি বিচার সংস্কার, মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো কম বিতর্কিত বিষয়ের দিকে নিজের মনোযোগ বাড়িয়েছিলেন।
ওই সব বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি সিএনএনকে বলেছেন, হোয়াইট হাউসের কর্ম প্রচেষ্টায় ইভাঙ্কা গর্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রশাসনের সাফল্য এগিয়ে নিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্পের এবারের মেয়াদে বাবার প্রতি ইভাঙ্কার উপদেশ অনেকটা রাডারের নিচে থাকার মতো বিষয় হবে।
ইভাঙ্কার চিন্তার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র বলেছে, এবার যদি তিনি তাঁর বাবার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রভাব বিস্তার করতে চান, ‘তা কখনো জনসমক্ষে আসবে না’। অর্থাৎ আড়ালেই কাজ করবেন ইভাঙ্কা।
জামাতা কুশনারও এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কাজে তিনি বাইরে থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, কুশনারের সঙ্গে অঞ্চলটির নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে অঞ্চলটির সঙ্গে তাঁর নিজেরও বড় ধরনের আর্থিক স্বার্থ জড়িত।
নবনির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো যে নিজ পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিশেষ আস্থা রাখেন, সেটার প্রমাণ হলো জ্যারেড কুশনারের বাবা চার্লস কুশনারকে তিনি ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলা নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প, দূতদের মতামতের অপেক্ষায়
ইরানে হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছে, সেখানে যেকোনো হামলা ‘এক দফা বা চূড়ান্ত কোনো আঘাত’ হবে না। বরং এমন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মতামতের ওপর নির্ভর করছে। তেহরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ত্যাগের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব করছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন এ দুই প্রতিনিধি।
সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক প্রভাব খাটানোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে বিরক্তি বাড়ছে বলে তাঁর সহকারীরা জানিয়েছেন।
ইরানে বেশ বড় ধরনের আঘাত হানা হবে—ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের কাছে এমন পরিকল্পনা চেয়েছেন, যাতে দুর্বল হয়ে ইরানি নেতারা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন। তবে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব পাঠাবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কর্মকর্তাদের মতে, জেনেভার এই আলোচনা সংকটের অবসানে ‘শেষ চেষ্টা’ হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক আদালতে দখলদার ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়
নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল ২২ জুন নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) বাংলাদেশের দখলদার সরকারের তথাকথিত প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে রোম সংবিধির ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ দায়ের করেন কানাডা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমডি হাসান। তিনি গত ৫ অগাস্ট থেকে ১৮ অগাস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে নিহত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর হয়ে যাওয়া নির্মম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, এই মর্মে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতঃ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত দুইটি অপরাধ হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করেন। জনাব হাসানের আইনজীবি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সলিসিটর নিঝুম মজুমদার।
ইউনুস ছাড়াও এই ৬৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে আসিফ নজরুল, লে জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব) শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সহ ইউনুসের উপদেষ্টা মন্ডলীর সকল সদস্য এবং কথিত ছাত্র বৈষম্য জোটের মোহাম্মদ হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম, আবু বকর মজুমদার সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখ্য অভিযোগ আনা হয়।
এই অভিযোগে মূল অভিযোগপত্রের সাথে প্রায় ১৭০০ পৃষ্ঠার তথ্য-নথি-পত্র প্রমাণ স্বরূপ যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নাম করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনুস সরকার গত ৫ ই অগাস্ট থেকে ১৭ ই অগাস্ট(২০২৪) পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত করে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, ধর্ষন, দেশ ত্যাগে বাধ্য এবং লক্ষ লক্ষ ঘরবাড়ি, সম্পদ ইত্যাদি বিনষ্ট করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দাখিলকৃত এই অভিযোগের মধ্যে জনাব এম ডি হাসান কানাডাপ্রবাসী প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করলেন। তবে এই ধরনের আরো ১৫ হাজার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করবার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে খুব শিঘ্রীই ক্ষতিগ্রস্থ সংঘুব্ধ ব্যাক্তিরা একে একে অভিযোগ দায়ের করবেন।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ নিয়ে ফলকার টুর্ক : সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন দেখলাম
বাংলাদেশে জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে দমন–পীড়নে অংশ না নিতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করার পর সরকার পরিবর্তন হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্ক এ কথা বলেছেন। বিবিসির ওয়েবসাইটে বুধবার হার্ডটক অনুষ্ঠানের এই পর্ব প্রকাশ করা হয়। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্কের সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির উপস্থাপক স্টিফেন সাকার।
অনুষ্ঠানে গাজা, সুদান, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্টিফেন সাকার ফলকার টুর্ককে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধ মেনে এসব পরিস্থিতি সমাধানে জাতিসংঘকে ক্ষমতাহীন মনে হচ্ছে। এর জবাব দিতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ফলকার টুর্ক।
ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে এটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। আমি গত বছরের বাংলাদেশের উদাহরণ দিচ্ছি। আপনি জানেন জুলাই–আগস্টে সেখানে ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।’ বাংলাদেশে তখন শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রদের আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিপীড়ন চলছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য বড় আশার জায়গা ছিল আসলে আমরা কী বলি, আমি কী বলি, আমরা কী করতে পারি এবং আমরা ওই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করি।
আমরা প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করি, যদি তারা এতে জড়িত হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে তারা হয়ত আর শান্তিরক্ষী পাঠানোর দেশ থাকতে পারবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা পরিবর্তন দেখলাম।’ ফলকার টুর্ক বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলেন, তিনি আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে বললেন, আপনি কি একটি তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠাতে পারেন, পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন এবং সেখানে যা ঘটছি, তা তদন্ত করতে বললেন। আমরা এগুলোই করেছিলাম। এবং এটা কার্যত সাহায্য করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত বছর বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আমরা একটি অবস্থান নেওয়ায়, আমরা কথা বলায় এবং তাদেরকে সহযোগিতা করায় ছাত্ররা আমাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ ছিল।’
সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ফলকার টুর্ক বলেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হবে। কারণ, ইউএসএআইডি এবং বিদেশি সহায়তা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সিরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশের দেশগুলোতে থাকা সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের ক্ষেত্রে এটা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে তাঁরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনের গাজার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সেখানে যা ঘটছে, তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
-
টরন্টোর খবর11 months ago
অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের পদত্যাগের দাবীতে কানাডা আ. লীগের মানববন্ধন ও স্বারকলিপি
-
টরন্টোর খবর1 week ago
টরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
আন্তর্জাতিক6 days agoইরানে হামলা নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প, দূতদের মতামতের অপেক্ষায়
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
ভোটের হার জানতে সব আসনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে: ইসি সচিব
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
‘দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে’
