Home নির্বাচিত বৃদ্ধাশ্রমে এক মুক্তিযোদ্ধার সাথে অন‍্যরকম ভাললাগা বিজয় দিবস উদযাপন
নির্বাচিতমতামত

বৃদ্ধাশ্রমে এক মুক্তিযোদ্ধার সাথে অন‍্যরকম ভাললাগা বিজয় দিবস উদযাপন

Share
Share

ডা. খলিলুর রহমান২৪ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ১৯৭১ সালের বিজয়ের এই দিনে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীকে চুড়ান্তভাবে পরাজিত করে আমরা স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনি। তবে বিগত ৫৪ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার ভিন্ন ধরনের অনুভূতি নিয়ে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক বিজয় দিবস উপলক্ষে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামী অভিনন্দন জানাই। আমি সব সময় বিজয় দিবসসহ অন্নান‍্য জাতীয় দিবস পালনের বক্তব্যে বলেছি এবং সারা জীবন বলে যাবো বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আমার মত অনেকেই সচিব হতে পেরেছেন, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান হতে পেরেছেন ও রাষ্ট্রদূত হয়ে দেশকে বিদেশের মাটিতে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছেন। আমি আজকে এই মহান বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধুসহ গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ ভাই-বোনদেরকে এবং দুই লাখের অধিক মা-বোন যাঁরা ৫৩ বছর আগে এই বিজয়ের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।

গত চার বছরে এই গৌরবময় বিজয় দিবসে কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কানাডায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এই সময়কালে যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে মারা গিয়েছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁদেরকে প্রাপ‍্য রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করেছি।

গত বছর এই দিনে মন্ট্রিলে আমি সেখানকার একটি বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলাম সেখানে বসবাসকারী এক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে দেখা করতে, যার কানাডায় কোনও আত্মীয়স্বজন নেই। আজ আমি দেশের একটি বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলাম সেখানে গত পাঁচ বছর যাবত বসবাসকারী এক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে দেখা করতে এবং তাঁকে অভিনন্দন জানাতে। পাকিস্তানের দখলদারিত্ব থেকে আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা দেশের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আরেক কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল খালেদ মোশাররফের অধীনে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি আমাকে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসরদের বিরুদ্ধে তাঁদের কিছু যুদ্ধের গল্প শোনালেন।

আজকের এই মহান বিজয় দিবসে আমি আমার নিজের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের কথাও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, যিনি পাবনায় পাকিস্তানী সেনা ক্যাম্পে নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন।

আসুন আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল লক্ষ‍্যসমূহ বাস্তবায়নের জন‍্য সম্মিলিতভাবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে দেশকে গড়ে তুলি এবং শহীদদের আত্মত্যাগ‍ের যথাযথ মূল‍্যায়ন করি।

লেখক : ড. খলিলুর রহমান একজন বাংলাদেশী অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক এবং কানাডায় সাবেক বাংলাদেশী হাইকমিশনার

Share
Related Articles

জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: তাহের

জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের...

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাধারণ মানুষের যাওয়া কি অপরাধ?

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাধারণ মানুষের যাওয়া কি অপরাধ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের...

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট...

নির্বাচন বিতর্কিত করতে কারচুপি-কালো টাকার মহোৎসব হয়েছে: মাহ্দী আমিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বিতর্কিত করতে আগের রাত থেকেই বিভিন্ন...