স্পটলাইট
সরাসরি লাইভ সংগীত অনুষ্ঠান। উপস্থাপনায় অরুনা হায়দার এবং টরন্টোর শিল্পী ইমরান সুমন।
বাংলাদেশের খবর
তিনটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করবে না ইসি
আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত জারি করা পৃথক তিনটি চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ২৮১ চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মাননীয় আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ফলাফল স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
চট্টগ্রাম-২ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনি এলাকা ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মাননীয় আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকায় সরোয়ার আলমগীরের ফলাফল স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
শেরপুর-২ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ১৪৪ শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মাননীয় আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬-এর চূড়ান্ত আদেশের ওপর মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভরশীল হবে মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
নির্বাচিত
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পুলিশের সংস্কার ফলপ্রসূ হবে না, সিজিএস সংলাপে বক্তারা
গত ১৫ বছরে পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে। কখনো কখনো পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে এমপি-মন্ত্রীদের থেকেও শক্তিশালী দেখা গেছে। জুলাই-আগস্টে পুলিশ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তাই পুলিশে সংস্কার দরকার। কিন্তু সে সংস্কার করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে পুলিশ সংস্কার ফলপ্রসূ হবে না। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তেন এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ: আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করেন সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সংলাপে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান, সাবেক আইজিপি এম এনামুল হক, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সিজিএস-এর চেয়ার মুনিরা খান, সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, সাবেক জজ, কলামিস্ট ও আইনি পরামর্শদাতা ইকতেদার আহমেদ, অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যরিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান, সমকালের প্রকাশক ও ব্যবসায়ী নেতা একে আজাদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সাফকাত মুনির, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, রাষ্ট্র সমন্বয়ক আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, শিক্ষক ড. মাহবুবুর রহমান, সাইমি ওয়াদুদ, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. জারিফ রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাজী রাকিব হোসেন এবং রেজওয়ানা রশীদ। শুরুতে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো সুশাসনের অভাব। সংস্কার শব্দটি অনেক ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এটি ঘৃণিত শব্দে পরিণত হয়েছে। সংস্কার চলনীয় একটি প্রক্রিয়া। আমরা সাধারণ মানুষের কথা শোনার চেষ্টা করছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।
সাধারণ জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছে না, পুলিশ মনোবল হারিয়ে ফেলেছে এবং প্রতিনিয়ত মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, সার্বিকভাবে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঠিক করা যায় তার ওপর নজর দিতে হবে। কেবল পুলিশের ওপর নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে কমিশনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পুলিশকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্যে ঘাটতি আছে। বর্তমান প্রযুক্তিগুলো পুলিশকে শিখাতে হবে। জনগণেরও পুলিশকে সাহায্য করতে হবে। পুলিশের কাজের তদারকি করার ব্যবস্থা করতে হবে। পার্লামেন্টে পুলিশের কোড অফ কন্ডাক্ট তৈরি করতে হবে। পর্যালোচনা প্রক্রিয়া আনতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল তৈরি করতে হবে। এডভোকেসি গ্রুপগুলোকে সাহায্য করতে হবে যেন ওয়াচ ডগ হিসেবে কাজ করতে পারে। জনগণকে তাদের দাবি তুলে ধরতে হবে যেন সেই দাবিগুলো তারা পূরণ করতে পারে। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত সরকার এমন আভাষ দিয়েছে যে তারা ক্ষমতায় না থাকলে অনেক মানুষ মারা যাবে। পুলিশের সেবা না কি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ দরকার? এখানে কাজ করতে হবে। পুলিশের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কার করতে হবে যেন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ না হয়। এম এনামুল হক বলেন, রাজনৈতিক নেতার আদেশের বিরুদ্ধে না বলার সাহস থাকতে হবে সবার যদি তা আপনার বিবেকে বেঁধে থাকে। প্রয়োজনবোধে সাহস করতে হবে। কমিশন আগেও হয়েছে কিন্তু তার প্রয়োগ হয়নি। তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, স্কুলে পুলিশের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্তিকরণে কিছু সমস্যা আছে। সাংস্কৃতিক আত্মস্থকরণ দরকার। এটি করতে সময় লাগবে। ভোট দেয়ার অধিকার সবচেয়ে উপরে থাকবে। পুলিশকে আমরা হেনস্তাকারী সংস্থা হিসেবে তৈরি করেছি। বিচার সব জায়গায় থাকতে হবে কেবল পুলিশের ক্ষেত্রেই নয়। যারা নির্দেশ দিয়েছে ও অর্থনীতি ধ্বংস করেছে তাদেরকেও ক্ষমা চাইতে হবে ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ইতিবাচক কর্তৃত্বভীতি থাকতে হবে। অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ যেন কেউ আর না করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। মো. জারিফ রহমান বলেন, পুলিশ ও জনগণের মাঝে একটা ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে জুলাই- আগস্ট গনঅভভুথানে। পুলিশ তার ভুল স্বীকার করেছে। কিন্তু দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হয়েছে। এটার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে কমিউনিটি পর্যায় থেকে। এখানে নজর দিতে হবে। চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স কমিউনিটি পর্যায় থেকে শুরু করলে অন্য কেউ জুলাই-আগস্টের মতো কিছু করতে চাইলেও তা পারবে না।
কমিশনে এমন মানুষ থাকতে হবে যারা চাপিয়ে দেয়া নির্দেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে। রেজওয়ানা রশীদ বলেন, পুনর্গঠন রাতারাতি পরিবর্তন হবে এমন চিন্তা থেকে বের হতে হবে। এটার জন্য গোঁড়া থেকে কাজ করতে হবে। কমিউনিটি পর্যায় থেকে কাজ শুরু করতে হলে পুলিশ এডুকেশন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে স্কুল পাঠ্যক্রমে। মহিলা ও আদিবাসীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এএসএম নাসিরুদ্দিন এলান বলেন, পুলিশ গত ১৫ বছর অনেক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। তারা দায়মুক্ত ছিল যা বিগত সরকার দিয়েছে। জুলাই-আগস্টের পর পুলিশের মনোবল কমে গেছে। আমরা যেই সংস্কারের দিকে যেতে চাচ্ছি সেদিকে যেতে পারছি না। এরপর যেই সরকার আসবে তারা যদি সংস্কার না করতে পারে তবে আমরা আবার ফ্যাসিজম দেখতে পাব। একে আজাদ বলেন, ৫২ থেকে এই পর্যন্ত পুলিশের তুলনা করে দেখেন তার উন্নতি হয়েছে নাকি অবনতি? পুলিশকে এই পর্যায়ে কে নিয়ে গেল? এগুলো রাজনৈতিক দলগুলো করে থাকে। পুলিশকে অমানবিক কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। র্যাবকে বিলুপ্ত করতে হবে। এগুলো না করলে এটা চলতেই থাকবে। উষাতন তালুকদার বলেন, আমরা বলি দেশের মালিক জনগণ। কিন্তু আসলেই কি তাই? যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করে তারা কার স্বার্থে কাজ করে? পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে তার দলীয় পরিচয় দেখা যাবে না। যারা ক্যাডার হয় তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সামগ্রিকভাবে মূল্যবোধ ঠিক করতে হবে। সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। গায়েবি মামলা নিয়ে বর্তমান সরকার কিছু করেনি। পুলিশের বেতনভাতা বাড়ানো নিয়ে চিন্তা করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে পুলিশের ক্ষমতা জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। রাশনা ইমাম বলেন, আইনি অবকাঠামো পরিবর্তন করা হয়নি। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। এগুলো মানা হয় না। বিচার বিভাগে রিট করা হয় যে পুলিশ যেন ছাত্রদের ওপর আক্রমণ না করে। কিন্তু তা পরে খারিজ করে দেয়া হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। আইনি সংস্কার দরকার কিন্তু তা ঢালাওভাবে করা যাবে না। প্রাধান্য অনুসারে করতে হবে। ইকতেদার আহমেদ বলেন, পুলিশের সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। অতীতে এবং বর্তমান সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে কাজ করছে। এরকম হতে থাকলে দেশে কখনো গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারবে না। আইন কমিশনে আসবে পিএইচডি করা ব্যক্তি। বিগত সরকার তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের জন্য কিছু বিচারককে নিয়োগ করেছিল। আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আমাদের দেশে একজন ভালো রাজনীতিবিদ দরকার। ভালো মানুষদেরকে সংসদে আসতে হবে, দেশ শাসনে আসতে হবে। খারাপ ভোটার খারাপ মানুষদের ক্ষমতায় আনবে। মুনিরা খান বলেন, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এখন ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত সবাই পুলিশকে ব্যবহার করেছে। অন্যায়কারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগের সাথে পুলিশের সমন্বয় করতে হবে। পুলিশ একজনকে ধরে নিয়ে যায় কিন্তু পরে সে ম্যাজিস্ট্রেটকে টাকা দিয়ে বের হয়ে যায়। এমনটি যেন না হয়।
আন্তর্জাতিক
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার নিয়ে ভারতে যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে
বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও সেদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে কথিত হামলার ঘটনা নিয়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদী দলগুলি বেশ আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ।
ভারতের প্রধান হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র কড়া বিবৃতির মধ্যেই তাদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখেছে, তবে পশ্চিমবঙ্গে দলটির নেতারা কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নেমে বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। টেলিভিশনে বক্তব্য দিতে গিয়েও বিজেপি নেতাদের একাংশ বাংলাদেশ নিয়ে বেশ আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে কেন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করছেন না, তা নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।
আবার ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের গত দুদিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দুধরনের প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এক্ষেত্রে জাতীয় স্তরের ইংরেজি ও হিন্দি গণমাধ্যমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদনের স্পষ্ট ফারাক আছে বলেই মনে করছেন গণমাধ্যমের বিশ্লেষকরা।
যেখানে জাতীয় গণমাধ্যমগুলিতে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রাসী ‘প্রতিবাদী’ ধাঁচে খবর দেখানো হচ্ছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের খবরের কাগজগুলোতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসে গ্রেফতার ও তার পরবর্তী ঘটনাক্রম নিয়ে যা লেখা হচ্ছে, তা যথেষ্ট মাপা এবং নিরপেক্ষ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর মধ্যেই অবশ্য মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীরা যেখানে ধরা ছোয়ার বাইরে সেখানে একজন ধর্মীয় নেতা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিবৃবিতে বাংলাদেশের হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান জানানো হয়।
অন্যদিকে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশের পাল্টা বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অতিশয় হতাশা ও গভীরভাবে অনুভূতিতে আঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে কিছু মহল তা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমন অপ্রমাণিত বিবৃতি শুধু সত্যের অপলাপই নয়, একই সঙ্গে তা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার চেতনার পরিপন্থি।
কী বলছে বিজেপি?
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-ই প্রথমে মুখ খুলেছিলেন। ‘হিন্দুদের ওপরে হামলা’র মতো বিষয়ে তাকে আগেও কড়া প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা গেছে।
কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাইরে মি. অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির বিধায়করা বিক্ষোভ দেখান মঙ্গলবার।
সেখানে মি. অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।”
“সারা পৃথিবীর সব হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজ কলকাতায় বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ দেখালেন। তবে বাংলাদেশে যদি হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার অতি সত্বর বন্ধ না হয় তাহলে আমরা আরও জোরালো বিক্ষোভ শুরু করব।”
মঙ্গলবার রাতে কলকাতার বেহালা অঞ্চলে কোনও দলীয় পতাকা ছাড়াই হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীরা মশাল মিছিল করেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপরে কথিত হামলার বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে শোনা গেছে ওই মিছিলে।
মঙ্গলবার রাত থেকে চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের নানা জায়গায় সহিংসতার অনেক ভিডিও গণমাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
এরপরে বুধবার সকালে বিজেপির সংসদ সদস্য ও রাজ্যে দলটির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “ইথিওপিয়াতে মার্কিন অবরোধ, গাজা স্ট্রিপে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাস্তায় মিছিল হয় আর আজ এত বড় অত্যাচার হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে (কোথায় প্রতিবাদ)?
“তারা আমাদের ভাই, তারা মারা যাচ্ছেন সেখানে, একটা শব্দ কেউ উচ্চারণ করতে পারছেন না? কোনও প্রতিবাদ হচ্ছে?” বলছিলেন মি. ভট্টাচার্য।
বিজেপি নেতা ও ‘কমিটি এগেইনস্ট অ্যাট্রসিটিস অন মাইনরিটিস অফ বাংলাদেশ’ বা ‘ক্যাম্ব’-এর আহ্বায়ক মোহিত রায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপরে কথিত অত্যাচার নিয়ে সরব।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “একটা রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, যেমন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ বা মিছিল করা, সেরকম কিছু কিন্তু দল হিসাবে ভারতীয় জনতা পার্টি এখনও পর্যন্ত দেখায় নি। মঙ্গলবার রাতে যে মিছিল হয়েছে কয়েকটি স্থানীয় হিন্দু সংগঠন আয়োজন করেছিল, সেখানে আমিও ছিলাম, অনেক বিজেপি কর্মী সমর্থকও ছিলেন, কিন্তু সেখানে কোনও দলীয় পতাকা ছিল না। এটা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে একটা হতাশাও কাজ করছে।“
তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম প্রতিবেশী একটি দেশের কোনও ঘটনা নিয়ে কেন বিজেপি নেতারা ‘হিন্দু’দের রাস্তায় নামার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন?
মি. রায়ের কথায়, “তারা অন্য দেশের মানুষ হতে পারেন। কিন্তু তারা তো হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দু। আমরা তো এটাও দেখেছি যে উত্তরপ্রদেশের একটা মসজিদ ভাঙ্গার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯২ সালে পুরো বাংলাদেশের হিন্দু মন্দিরগুলোতে আক্রমণ-ভাঙচুর হয়েছিল। তবে দুঃখের ব্যাপার এটাই যে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে কিছু ঘটলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা কিছু করছে না! তাদের তো সক্রিয় হওয়া উচিত। যেটুকু প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত কম।”
বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে সরব হলেও এখনও পর্যন্ত অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর তরফে সেরকম কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয় নি।
বিজেপির লক্ষ্য স্থানীয় হিন্দু ভোট?
বিজেপি বা অন্য কোনও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মুখে বেশ আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখালেও রাস্তায় নেমে বিশেষ কোনও প্রতিবাদ যে এখনও দেখা যাচ্ছে না, তার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কেউ কেউ বলছেন যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলার ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ হিন্দুত্ববাদীদের আসল লক্ষ্য নয়।
“বাংলাদেশের ঘটনাক্রম নিয়ে বিজেপি বা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো যে কড়া প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি দেয়, তার আসলে লক্ষ্য হল পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে হিন্দু ভোট এক-জোট করা। আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গে এই পদ্ধতি তারা দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করছে, সম্প্রতি একই নীতি তারা প্রয়োগ করছে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশাতেও। এই গোটা অঞ্চলে নানাভাবে তারা বাংলাদেশটাকেই ইস্যু করে তুলেছে,” বলছিলেন ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিশ্লেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য।
তার কথায়, “এই পুরো অঞ্চলে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করছে, আবার হিন্দুদের বলছে তোমরা যদি বাংলাদেশের মতো টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়তে না চাও তাহলে এলাকা থেকে মুসলমান হটাও।”
“আগে কথায় কথায় মুসলমানদের পাকিস্তানে চলে যেতে বলা হত, এখন সেটা বদলিয়ে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে চলে যাও,” বলছিলেন, মি. ভট্টাচার্য।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার নিয়ে ভারতের গণমাধ্যম
মঙ্গল ও বুধবার দুদিনই ভারতের সংবাদপত্রগুলিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার, চট্টগ্রামের আদালতে তাকে পেশ করার পরবর্তী সহিংসতার খবরাখবর গুরুত্ব পেয়েছে। এই সংক্রান্ত খবরাখবর দেখানো হচ্ছে টেলিভিশনের প্রাইম টাইম বুলেটিনগুলিতেও।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয় বাংলাদেশের ঘটনাক্রম নিয়ে, তারপর থেকেই জোরেশোরে কভারেজ শুরু করে ভারতীয় মিডিয়া।
ভারতের জাতীয় সংবাদপত্রগুলিতে বুধবার চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি ও বাংলাদেশের সহিংসতা নিয়ে যেধরণের শিরোনাম হয়েছে, তার বেশিরভাগেই রয়েছে ভারত সরকার যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি। যেমন ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেসের শিরোনাম হল ‘Monk arrest: india flags safety of Hindus, Dhaka says it is deeply hurt’ অর্থাৎ সন্ন্যাসী গ্রেফতার – হিন্দুদের সুরক্ষার বিষয়ে উল্লেখ ভারতের, ঢাকা জানাল তারা ব্যথিত।
হিন্দুস্তান টাইমসের শিরোনাম হয়েছে ‘Protect all minorities, India tells bangladesh after arrest of hindu priest’ অর্থাৎ সংখ্যালঘুদের রক্ষা করুন, হিন্দু সন্ন্যাসীকে গ্রেফতারের পরে বাংলাদেশকে বলল ভারত।
এই দুটি কাগজ ভারতের বিবৃতিকে গুরুত্ব দিলেও অন্যতম বেশি বিক্রির ইংরেজি পত্রিকা টাইমস অফ ইণ্ডিয়ার শিরোনাম একটু আলাদা। তারা লিখেছে India bangladesh tensions mount as hindu priest jailed for ‘sedition’, অর্থাৎ ‘দেশদ্রোহে’র জন্য হিন্দু সন্ন্যাসীর জেলের পরে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ল
দুটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দি দৈনিক অমর উজালা এবং দৈনিক জাগরণ প্রায় একই শিরোনাম করেছে, যেখানে তারা ভারত সরকারের বিবৃতিটিকে গুরুত্ব দিয়ে লিখেছে যে হিন্দুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করুক বাংলাদেশ, বলল ভারত।
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা পত্রিকাগুলিও প্রথম পাতাতেই বাংলাদেশ সংক্রান্ত খবর ছেপেছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় এক কলমের খবরের শিরোনাম হল: ‘চিন্ময়কৃষ্ণকে নিয়ে কড়া বিবৃতি দিল্লির, পাল্টা ঢাকারও’। তবে তারা ভেতরের পাতায় তিন কলাম জুড়ে বড় ছবি দিয়ে বিস্তারিত খবর ছেপেছে। তার শিরোনাম ছিল : ‘চিন্ময়কৃষ্ণ জেলে, রণক্ষেত্র চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী’।
বর্তমান কাগজের শিরোনাম হল ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ভারতের’।
বাংলা কাগজগুলির মধ্যে বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত খবর দিয়ে সবথেকে বড় করে প্রতিবেদন ছেপেছে প্রতিদিন কাগজ।
তারা শীর্ষ খবরের শিরোনাম দিয়েছে এভাবে : ‘সন্ন্যাসী গ্রেফতারে উত্তাল বাংলাদেশ – পুলিশের লাঠি, খণ্ডযুদ্ধে মৃত এক’।
প্রথম পাতায় আরও একটি খবর রয়েছে প্রতিদিন কাগজে, যেটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইস্কনের বিবৃতি সংক্রান্ত।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি কাগজ ‘দ্য টেলিগ্রাফ’এর শিরোনাম করা হয়েছে ‘Hindu preacher arrest triggers bangla clashes’, অর্থাৎ হিন্দু সন্ন্যাসী গ্রেফতারে বাংলায় সংঘর্ষ’।
বাংলা ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন সুর
“ভারতীয় গণমাধ্যম যেভাবে গত দুদিনের ঘটনাক্রম দেখাচ্ছে, সেটাকে দুটো ভাগে ভাগ করতে হবে আমাদের – একটা জাতীয় স্তরে কী দেখানো হচ্ছে বা ছাপা হচ্ছে আর অন্যটা পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার কাগজ-টিভিতে কী দেখানো হচ্ছে,” বলছিলেন সংবাদ পোর্টাল দ্য ওয়ালের কার্যকরী সম্পাদক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক অমল সরকার।
“সর্বভারতীয় গণমাধ্যম – ইংরেজি এবং হিন্দি দুই ভাষাতেই বাংলাদেশের এই ঘটনা নিয়ে যা দেখানো হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সংবাদমাধ্যম যেন একটা রাজনৈতিক দল এবং সরকারের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে – প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা প্রথম সারির গণমাধ্যম কিন্তু সবসময়েই এধরনের ঘটনায় – তা বাংলাদেশের হোক বা অন্য কোনও জায়গায় – খুব সতর্কতা এবং সংযতভাবে উপস্থাপন করে,” বলছিলেন মি. সরকার।
তার কথায়, “সেই ধারাবাহিকতায় কিন্তু এবার একটু ব্যত্যয় ঘটেছে। জাতীয় টিভি চ্যানেলগুলির যেসব বাংলা শাখা চ্যানেল আছে, তাদের কভারেজও কিন্তু জাতীয় স্তরের গণমাধ্যমের মতোই হচ্ছে। সেটা বেশ আগ্রাসী প্রতিবেদন করছে, সাংবাদিকতা ছাপিয়ে প্রতিবাদের স্বর উঠে আসছে যেন।”
“আবার পাঁচই অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপরে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ হওয়ার খবর আসতে থাকলেও এর আগে সংগঠিতভাবে হিন্দুদের প্রতিবাদ করতে দেখা যায় নি। এবার সেদেশে যে হিন্দুদের প্রতিবাদ হচ্ছে, সেটা যেহেতু নতুন, তাই সংবাদমাধ্যমের কাছে খবর হয়ে উঠেছে,” বলছিলেন মি. সরকার।
-
টরন্টোর খবর11 months ago
অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের পদত্যাগের দাবীতে কানাডা আ. লীগের মানববন্ধন ও স্বারকলিপি
-
টরন্টোর খবর1 week ago
টরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
আন্তর্জাতিক6 days agoইরানে হামলা নিয়ে দোলাচলে ট্রাম্প, দূতদের মতামতের অপেক্ষায়
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
ভোটের হার জানতে সব আসনের ফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে: ইসি সচিব
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
‘দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে’
