বাংলাদেশের খবর

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব

Published

on

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে দেখা দেওয়া এই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে দুই নিকট প্রতিবেশী দেশ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আজ রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের (ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স) ফাঁকে তাঁদের মধ্যে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৌহিদ হোসেন ও জয়শঙ্কর দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুজনের আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গত ডিসেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি উপদেষ্টার দিল্লিতে একটি সম্মেলনে যোগদানের বিষয়টিও উঠে আসে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেছেন, ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে সীমান্ত–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সুরাহা হবে।

তৌহিদ হোসেন দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরুর ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ জানান।

বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন। দুজনের ছবি দিয়ে তিনি ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিমসটেক।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এটা দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একবার আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন তাঁরা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মাস্কাটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যাপ্তি ছিল আধা ঘণ্টার কম। আলোচনায় তাঁরা দুজন দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের আলোচনায় আগামী এপ্রিলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আয়োজনের প্রসঙ্গটি এসেছে।

Trending

Exit mobile version